আসসালামু আলাইকুম,
প্রিয় সম্মানিত BPIA–এর ভোটারবৃন্দ,
আসন্ন নির্বাচনে পোল্ট্রি পেশাজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (BPIA) দেশের সকল পোল্ট্রি পেশাজীবী তথা পোল্ট্রি শিল্পের সকল স্টেকহোল্ডারের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আসন্ন নির্বাচনে পোল্ট্রি পেশাজীবী পরিষদ পোল্ট্রি শিল্পের সাথে যুক্ত সকল স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে একটি সক্ষম, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্যানেল গঠন করেছে।
আপনাদের আন্তরিক সমর্থন ও সুচিন্তিত ভোটে নির্বাচিত হলে, সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পোল্ট্রি শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সুরক্ষায় সময়োপযোগী নিচের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে কাজ করা হবে—
ডিম ও মুরগির বাজারে অযৌক্তিক দাম ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সরকারি–বেসরকারি যৌথ মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংকটময় সময়ে সাধারণ পোল্ট্রি খামারিদের সুরক্ষায় সরকারি ভর্তুকি চালুর দাবি জানানো হবে।
পোল্ট্রি পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি শক্তিশালী জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন বোর্ড গঠনে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হবে।
কম সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পোল্ট্রি খামারের বিদ্যুৎ বিল কৃষি খাতের অনুরূপ কম হারে নির্ধারণ এবং সকল পর্যায়ে ২০% ভর্তুকি নিশ্চিত করতে আলোচনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচিত হলে দ্রুততম সময়ে AGM/EGM আয়োজন করে দেশের সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে গঠন করা হবে।
প্রতিটি জেলায় “খামারি সহায়তা ডেস্ক” চালু করা হবে।
BPIA, DLS এবং Breeder Association-এর সমন্বয়ে বাচ্চার যৌক্তিক দাম নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ খামারিরা সঠিক মূল্য পান।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং খামারির লাভজনক বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ও উৎপাদকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
লিটার দিয়ে বায়োগ্যাস ও অর্গানিক সার তৈরিতে সরকারি–বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পোল্ট্রি ঘন এলাকায় সরকারি–বেসরকারি উদ্যোগে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে কাজ করা হবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত বাজারদরের সঙ্গে খামারির প্রকৃত খরচ সমন্বয় করে লাভজনক দাম পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হবে।
বাজার দর, আবহাওয়ার সতর্কতা, রোগ–বালাই সংক্রান্ত তথ্য খামারিদের রিয়েল-টাইমে দেওয়ার জন্য “পোল্ট্রি স্মার্ট অ্যাপ” চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অপ্রয়োজনে ডিম আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে নিরুৎসাহিত করা হবে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য পোল্ট্রি ঘন এলাকায় ছোট ল্যাব স্থাপনে বিনিয়োগ ও নীতিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নীতিতে পোল্ট্রি খাতের অবদান স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হবে।
দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যমান ল্যাব আধুনিকায়ন এবং নতুন বিভাগীয় ল্যাব স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
উৎপাদন ব্যয় কমাতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক–ভ্যাট কমানোর বিষয়ে কার্যকরী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খামারিদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশে ভ্যাট ও আমদানি কর কমানোর দাবি জানানো হবে।
সদস্যপদ, অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন—সবকিছু অনলাইন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে।
পোর্টে আটকে থাকা জরুরি পোল্ট্রি পণ্য দ্রুত ছাড় করাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা হবে।
জাতীয় বাজেটে খামারিদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সরকারি ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানো ও মানোন্নয়নে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হবে।
HACCP, GAP, ISO মান বজায় রেখে নিরাপদ উৎপাদনে প্রশিক্ষণ, প্রচার ও সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা হবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে কর ছাড় এবং দাতা সংস্থার সহায়তা সংগ্রহে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশি পোল্ট্রি পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা হবে।
প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন ও বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
নিরাপদ উৎপাদন, জলবায়ু-সহনশীল খামার নির্মাণ এবং পোল্ট্রি পেশাজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করা হবে।